শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ : আহ্বায়ক শাহিন সদস্য সচিব তুষার। কালের খবর সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন সেনাবাহিনীর। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় ধলিয়া খালে বিলীন বসতঘর ; প্রশাস‌নের ত্রান ‌বিতরণ। কালের খবর জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ধারণ করে ‘৩৬ জুলাই’ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। কালের খবর কাঁচা রাস্তা ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে বাঘাইহাট জোনের সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন। কালের খবর সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন? সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা। কালের খবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি নতুন ওয়ার্ডগুলোয় মশার রাজত্ব, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। কালের খবর নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি’র সহায়তায় সিদ্ধ চাল পেল গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীরা। কালের খবর
ইপিজেড থানার পাশেই চলছে জাহাঙ্গীরের চাঁদাবাজি নিরব রয়েছে প্রশাসন। কালের খবর

ইপিজেড থানার পাশেই চলছে জাহাঙ্গীরের চাঁদাবাজি নিরব রয়েছে প্রশাসন। কালের খবর

 

বিশেষ প্রতিনিধি, কালের খবর : 

নগরীর ইপিজেড থানার ওভার ফুট কন্টেইনার ডিপুর পশ্চিম গেইটে বন্দরের জায়গা দখল করে বসানো হয়েছে অবৈধ ২০টি দোকানপাট নিরব ভূমিকা পালন করছেন পুলিশ প্রশাসন।

দোকান মালিক সূত্রে জানা গেছে এসব দোকান থেকে এককালিন জমা দিতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা হতে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দিনদৈনিক দোকান থেকে ভাড়ার নামে তোলা হচ্ছে ৩০০ (তিন শত টাকা করে চাঁদা) অভিযোগ উঠেছে সাবেক আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

এসব চাঁদার টাকা তুলতে গিয়ে সাবেক আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর নিজেকে পরিচয় দেন চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তাকর্মীর একজন সদস্য। চাঁদার টাকা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের দিতে হয় বলে জানান দোকান মালিকদেরকে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন ভিন্ন কথা জাহাঙ্গীরের সাথে বন্দর কতৃপক্ষের কোন সম্পর্ক আগে বা পরে কোনদিনই ছিল না।এসব দোকান বেশ কয়েকবার বন্দর কতৃপক্ষ উচ্ছেদ করেছে। তবে জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে এসে পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষে সেখানে গিয়ে জাহাঙ্গীর আবারও দোকান বসিয়ে চাঁদা উত্তোলন করছেন। প্রতিদিনের মতো আজও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইপিজেড থানার গেইট এর মুখ হতে মূল সড়কেই বসেছে ২০টি অবৈধ দোকানপাত।

এখানে রয়েছে শাক-সবজি, তরকারি, বিভিন্ন ফল ও আখের রসের দোকান,এছাড়া বন্দর ডিপু ওভার ফুট পশ্চিম গেটের খালি জায়গায় বসেছে আরও ৭টি চায়ের দোকান (গরুর ভুঁড়ি) ও জুসের দোকান। এসব দোকানের ময়লা আবর্জনার কারণে পাশে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ব্যাপক সমস্যার মধ্য পড়তে হচ্ছে। দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ইপিজেড থানার পাশে বন্দরের জায়গাটির ভিতরে ও মুখে ২০টি দোকান বসিয়েছে সাবেক আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর। এসব দোকান বসাতে গিয়ে দোকানের জমা বাবদ এক কালিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাদেরকে। সেখান থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা এক কালিন চাঁদা আদায় করেন সাবেক আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর। এছাড়া দৈনিক ভাড়া বাবদ ৩০০ শত টাকা করে দিতে হয়,এহিসেবে এখান থেকে দৈনিক চাঁদা উত্তোলন হয়,৬ হাজার টাকা। যা মাসে দাড়ায় টাকা ১.৮০০০০ হাজার একবছরে আয় ২১ লাখ ষাট হাজার টাকা।

থানায় সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন,আমি থানায় একটি কাজে এসেছি,দোকানগুলোর কারণে মোটরসাইকেল যে কোথায় রাখবো তার জায়গা খুজে পাচ্ছিনা,আমার মতো অনেকে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে আসেন। গত এক মাস আগেও বন্দরের জায়গাটিতে গাড়ি পার্কিং করা যেত। কিন্তু এসব দোকানের কারণে মাঠে পার্কিং তো দুরের কথা,সেখানে ঢুকাই বড় মুশকিল হয়ে যায়।তিনি আরও বলেন,ইপিজেড থানার পাশে এসব দোকান থাকাতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মসজিদের এক মুসল্লি তিনিও সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভাসমান এসব দোকান মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে,মুসল্লিরা ঠিকমতো নামাজ পড়তে আসতে পারে না,বিশেষ করে আসরের নামাজের সময় তরকারি কিনতে গার্মেন্টসের নারীকর্মীরা ভীড় করে,এতে মসজিদে ঢুকার পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন মুসল্লি ও মহিলাদের সাথে ধাক্কা-ধাক্কি করে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া মসজিদের ওয়ালের সাথে বিভিন্ন বাঁশ ঝুলিয়ে দোকানগুলো নির্মান এবং ময়লা আবর্জনা ভিতরে ফেলায় দুর্গন্ধে ঠিকমতো নামাজ আদায় করতে পারি না।এসব দোকান অতিদ্রুত বন্ধ করার জন্য ইপিজেড থানার ওসি আব্দুল করিম মহোদ্বয়কে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

এবিষয়ে বন্দর বিভাগের লেঃ কর্নেল আরিফকে অবগত করলে তিনি বলেন, ওই জায়গাটির দোকানপাট আমরা উচ্ছেদ করেছি,বর্তমানে আমরা একটি সিমানা নির্ধারন করে দিয়েছি এর ভিতরে কোন দোকান বসাতে পারবে না। এটা থানার কাজ আমি এব্যাপারে কিছুই করতে পারব না।

বিষয়টি ইপিজেড থানাকে অবগত করলে (ওসি)আব্দুল করিম বলেন, এটা আমাদের জায়গা না, এটা বন্দরের জায়গা বন্দর কতৃপক্ষের সাথে কথা বলুন।

প্রশ্ন জনগণের ইপিজেড থানার কর্মকর্তারা বলছেন এটা তাদের জায়গা না। বন্দর কতৃপক্ষ বলছেন এই রাস্তাটি আমাদের সিমানার বাহিরে। সিটি কর্পোরেশন বলছেন একই কথা।

এ-সকল তথ্য জানাতে সাবেক আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরের কাছে জানতে চাইলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইপিজেড থানার মাঠ থেকে আমি তেমন বেশি টাকা পাই না,১০ টি দোকান থেকে ৩০০শত টাকা পাচ্ছি, গত কিছু দিন আগে সব দোকান বন্ধ ছিল, এতে করে দোকান বসাতে সমস্যা হয়েছিল, ইপিজেড থানার মাঠে আমার ১০টি নিজের দোকান আছে এছাড়া আমার আর কোন দোকান নেই,আপনারা ভালো করে জানেন এর আগে দৈনিক ইনফো বাংলায় একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল,গত ২ আগস্ট আবারও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় আমাকে নিয়ে লেখালেখি করেছে,এতে করে আমার একটু মানসম্মান নষ্ট হয়েছে।আপনারা আমার মানসম্মান আর নষ্ট করিয়েন না,আমি প্রতিমাসে আপনাদেরকে চা নাস্তার খরচ দিব, আপনারা আর পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ করবেন না।তিনি আরও বলেন,এই টাকা আমি একা খাই না সবাইকে দিয়েই খাচ্ছি, তবে কাকে কাকে দিচ্ছি সেটা তো আমি বলতে পারব না,বলে জানান আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর।

১২ বছর বয়সের এক শিশু গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারাতো আইনের কথা বলে থাকেন আমি তো ছোট মানুষ আনসার জাহাঙ্গীর আংকেল আমার কাছ থেকে দৈনিক ২৫০ দুইশত পঞ্চাশ টাকা নিয়ে থাকেন টাকা না দিলে আমাকে ওই স্থানে বসতে দিবে না বলে জানিয়েছেন ছোট ছেলেটি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com